মাঝে মাঝে কিছু কাজ আমাদের অদ্ভুত এক মানসিক প্রশান্তি দিয়ে যায়। তেমনি একটি দুর্দান্ত দিন কাটালাম ‘রংধনুর সাতরং’-এর একঝাঁক উদ্যমী তরুণ-তরুণীর সাথে। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত "সমতায় তারুণ্য" প্রজেক্টের আওতায় অনুষ্ঠিত হলো আমাদের এই বিশেষ ট্রেনিং সেশন।
এদিন আমার সেশনের মূল ফোকাস ছিল— "Interactive Session with local youth"। তরুণদের সাথে সেশন নেওয়ার একটা আলাদা মজা আছে, ওদের প্রশ্নগুলো হয় খুব শার্প এবং চিন্তাভাবনাগুলো হয় একদম ফ্রেশ। সত্যি বলতে, ওদের শেখাতে গিয়ে আমি নিজেও অনেক কিছু শিখেছি।
কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো?
আমাদের সম্পূর্ণ সেশনটিকে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে (Module) সাজানো হয়েছিল। সমাজ এবং ব্যক্তিজীবনের খুব সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমরা আলোচনার টেবিলে তুলে এনেছিলাম:
১. জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ভাঙা ও নারীর অধিকার:
শুরুতেই আমরা কথা বলেছি 'সেক্স' এবং 'জেন্ডার'-এর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে। আমাদের সমাজে নারীদের নিয়ে যেসব বদ্ধমূল ধারণা বা 'স্টেরিওটাইপ' রয়েছে, সেগুলো কীভাবে একটি মেয়ের সম্ভাবনাকে আটকে দেয়—তা নিয়ে আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি। ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সমান অধিকার এবং সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই যে একটি সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব, এই উপলব্ধিটা ওদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
২. তরুণদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা:
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর ঠিক এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো। সেশনে আমরা সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্রুমিং, ফিশিং এবং ডাটা প্রাইভেসি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখা করেছি। অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় এবং কোনো হয়রানির শিকার হলে কোথায় কীভাবে রিপোর্ট করতে হয়—এই বিষয়গুলো তরুণদের জন্য জানাটা এখন সময়ের দাবি।
৩. মিডিয়া লিটারেসি ও অ্যাডভোকেসি:
আমরা প্রতিদিন অনলাইনে হাজারো নিউজ দেখি, কিন্তু এর কয়টা সত্যি আর কয়টা ভুয়া (Fake News)? সোশ্যাল মিডিয়াকে কীভাবে শুধুমাত্র স্ক্রল করার কাজে ব্যবহার না করে, সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়—তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। কীভাবে একটা পজিটিভ অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন দাঁড় করানো যায়, সেটা নিয়ে তরুণদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো!
মূল্যায়ন ও পোস্ট টেস্ট (Post Test)
যেকোনো ট্রেনিং সেশনের সফলতার মাপকাঠি হলো অংশগ্রহণকারীরা সেখান থেকে কতটুকু শিখলো। সেশন শেষে আমরা একটি চটজলদি 'পোস্ট টেস্ট' বা মূল্যায়নের আয়োজন করেছিলাম গুগল ফর্মের মাধ্যমে। ওদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সঠিক উত্তরগুলো দেওয়ার চেষ্টা দেখে ট্রেইনার হিসেবে আমারও ভীষণ ভালো লেগেছে।
বিদায়বেলায় কিছু স্মৃতি
সবকিছুর শেষে এই দারুণ মুহূর্তগুলো ফ্রেমে বন্দি না করলেই নয়! ট্রেনিংয়ের শেষ ভাগে অংশগ্রহণকারী এবং আয়োজক সংস্থা 'রংধনুর সাতরং'-এর স্বেচ্ছাসেবী ভাইয়া-আপুদের সাথে আমাদের একটা আনন্দঘন ফটো সেশন হয়।
আমার বিশ্বাস, আজকের এই তরুণরাই আগামী দিনের সুন্দর ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার মূল কারিগর হবে। সুযোগ পেলে এরকম আরও ইন্টারেক্টিভ ও লার্নিং সেশনে যুক্ত হতে চাই। ধন্যবাদ জাগো ফাউন্ডেশন এবং রংধনুর সাতরং-কে এত চমৎকার একটি আয়োজনের জন্য!